Job Seeker

বেতন ও ক্যারিয়ারের দিক থেকে এদেশের সেরা ১০টি চাকরি

একটা ভাল চাকরি অনেকের কাছে যেমন সোনার হরিণ পাওয়ার মত ঠিক তেমনি এমন কিছু চাকরি রয়েছে এদেশে যেখানে বেতন প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকার উপর। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রকৌশলের ক্ষেত্রের চাকরিগুলোতে অনেক বেশি উপার্জন করার সুযোগ থাকায় পেশা হিসেবে ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ারদের কদর সব সময়ই অনেক বেশি হয়ে আসছে। এর পাশাপাশি রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। বেসরকারি বেশি ভাগ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এদের বেতন কয়েক লক্ষ টাকা। 

এর পরে রয়েছে প্রযুক্তিখাতের চাকরি। আধুনিক পৃথিবীতে বেশি বেতনের চাকরি মানেই প্রযুক্তিখাতের কদর। গত দশকে এই ধরনের চাকরির ক্ষেত্র যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রত্যাশীদের আগ্রহ। বর্তমানে আরও কিছু সেক্টর রয়েছে ভবিষ্যতে যার চাহিদা দিন দিন বাড়বে। 

আজাকের এই আর্টিকেলে আমরা বেতন এবং ক্যারিয়ার এর দিক থেকে তেমনি ১০ টি সেরা চাকরি নিয়ে আলোচনা করব এবং জানব এই সেক্টরে যদি ক্যারিয়ার গড়তে চান বছরে আপনি কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

১) হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার

এক সময় এইচআর নিয়ে দেশি উদ্যোক্তাদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে এর কার্যকারিতা এবং প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে বেড়েছে এর চাহিদা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব কর্মকর্তা অথবা কর্মচারী নিয়োগ দেয়া এবং তাদের কাজের তদারকি করা এইচআরডি’র কাজ। একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চাহিদা অনুযায়ী এইচআরডি কোম্পানির প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে থাকে এবং কর্মীদের বেতন কাঠামো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে এইচআরডি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা এবং এরা যাতে ঠিকভাবে কাজ করে সেদিকেও নজরদারি করে এ বিভাগ। এখানে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে অবশ্যই মাস্টার্স/এমবিএ মেজর-ইন-এইচআর ডিগ্রিধারী হতে হবে। তাহলে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। কিছু কাজের আগে অভিজ্ঞতা থাকলে আরো ভালো হয়। 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ১৬৫,৬২৯ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে। 

২) আইটি ব্যবস্থাপক

প্রযুক্তি পণ্য থেকে শুরু করে আইটির বিভিন্ন সেবার পরিচালনা করাই একজন আইটি ম্যানেজারের কাজ। গতানুগতিক পেশার মতো পেশা এটি মোটেও নয়। এ পেশায় অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হয়, সামলাতে হয় অনেক জটিল বিষয়। প্রতিদিনের বদলে যাওয়া প্রযুক্তির সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হয় সবসময়। আইটি ম্যানেজার হতে আপনাকে অনেক বেশি সময় দিতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তির উপর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সাধারণত আইটি ম্যানেজার পদে কাজ করার জন্য ইনফরমেশন টেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকা লাগে। একজন আইটি ম্যানেজারেরকে সব সময় একটিভ থাকতে হয়।

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ১০৫,৩৬৬ টাকা । তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

৩) একাউন্ট ম্যানেজার

বাংলাদেশি টাকায় গড় বাৎসরিক বেতন ১১,৩৩,৭৫০।

অ্যাকাউন্ট ম্যানেজা সংস্থার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের সাথে বিক্রয় এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক রক্ষা করেন। অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার কোনও ক্লায়েন্ট বা ক্লায়েন্টের গ্রুপের সাথে কোম্পানির বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখে, যাতে তাদের ব্যবসা এবং বাণিজ্য অব্যাহত থাকে। অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার কোনও সংস্থায় গ্রাহক পরিষেবা এবং বিক্রয় দলের মধ্যে ইন্টারফেস হিসাবে কাজ করে। অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার গ্রাহকের চাহিদা বুঝে, এই চাহিদাগুলি কীভাবে পূরণ করবেন তা পরিকল্পনা করে এবং কোম্পানির জন্য বিক্রয় বাড়ায়। অধিকাংশ কোম্পানিতে এ পদের জন্য ব্যবসা সংক্রান্ত ন্যূনতম ব্যাচেলর ডিগ্রির দরকার হয়। তবে মাস্টার্স ডিগ্রির প্রাধান্য রয়েছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষরা এই পেশা ভালো করে থাকে।

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ৯৪,৪৭৯ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

৪) মার্কেটিং ম্যানেজার

যে কোন বিজনেসে মার্কেটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ভাবে মার্কেটিং করতে পারলে একটি একটি দুর্বল পণ্য যেমন ভাল হয়ে যায় আবার একটি ভাল পণ্য সঠিক মার্কেটিং এর অভাবে হারিয়ে যায়। মার্কেটিং ম্যানেজার প্রতিষ্ঠানের বিপণন এবং বিজ্ঞাপন উদ্যোগ পরিকল্পনা, উন্নয়ন নির্বাহের এবং তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকেন। মার্কেটিং ম্যানেজারের প্রাথমিক দায়িত্ব বাজার গবেষণা, মূল্য গবেষণা, পণ্য বিপণন, বিপণন যোগাযোগ, বিজ্ঞাপন এবং জনসংযোগ ব্যবহার করে, সমগ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য সফল বিপণনের মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধি করা। এ পদে চাকরির জন্য ব্যবসা সংক্রান্ত ন্যূনতম ব্যাচেলর ডিগ্রির দরকার হয়। তবে কমিউনিকেশন স্কিল ভাল থাকলে এই সেক্টরে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ২৪০,৯২০ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

৫) ম্যানেজার

ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপক চাকরি জগতে লোভনীয় একটি পদ। একটি দলের উপযুক্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ার ৬৫ থেকে ৭০% নির্ভর করে একজন ব্যবস্থাপকের উপর। একজন ভালো ম্যানেজারের প্রথম গুণ হলো তার অধীনস্থ সকলের কাজ সুনিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে, সর্বাধিক কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হয়। দলের সকলের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দলের সকলে সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, এ বিষয়ে দৈনিক ফলো-আপ করা বাঞ্ছনীয়। দলীয় যেকোনো বিষয়ে ম্যানেজারের সিদ্ধান্তই থাকে চূড়ান্ত। সময় উপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে একজন ম্যানাজার একটি কোম্পানিকে অনেক উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন। 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ৬৫,৯৫০ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

৬) সফটওয়্যার ডেভেলপার

একটা সময় ছিল যখন ব্যাংক কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিরাপত্তা অথবা তথ্য একটা নির্দিষ্ট জায়গায় জমা রাখার কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখন নিরাপত্তা কাঠামো ডিজাইন, তথ্য সংরক্ষণ, উপস্থিতির জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবস্থা করা – এই জাতীয় বিবিধ কাজে বর্তমানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। 

ব্যাংকিং সহ আরও বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কাজের সুবিধার জন্য নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে। এর এই সফটওয়্যার তৈরির কাজটা একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার করে থাকেন। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা আইটি বিষয়ের স্নাতকরা সফটওয়্যার ডেভেলপার অথবা সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করে থাকে। 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ৮৫,৮৯৯ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

৭) মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। যেখান থেকে তাদের সকল সেবা কাস্টমার ঘরে বসে পেয়ে থাকে। মোবাইল ও স্মার্টফোন প্রযুক্তির উত্তরোত্তর বিকাশের কারনে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপাররা তাঁদের টেকনিক্যাল ডিজাইনের দক্ষতা কাজে লাগানোর অনেক সুযোগ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে চাইলে একটি অ্যাপ অথবা একাদিক অ্যাপ নিয়ে কাজ করা যায়। মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার এর চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। প্রযুক্তি যত উন্নতি হবে এর প্রয়োজনীয়তা তত বাড়বে।  

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ১২০,০০০ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

৮) অনলাইন মার্কেটিং চাকরি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কেটিং, ইন্টারনেট ও সাধারণ মার্কেটিং-এর একটি উপসেট। ব্যবসা আজকাল তার ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ইতোমধ্যেই অনলাইনে চলে এসেছে যেখানে ভোক্তারা আগে থেকেই রয়েছেন। যেহেতু বিলিয়ন বিলিয়ন সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী রয়েছে, তাই সারা বিশ্বের প্রচুর মানুষ এই বাজারে ঢুকে পড়েছে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যেমন, ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস এবং ইউটিউবে তাঁদের পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন সেবা প্রদান করছে।

আপনার যদি অনলাইন মার্কেট সম্পর্কে ধারনা থাকে। একাদিক ভাষা সম্পর্কে ধারনা থাকে তাহলে এই সেক্টরে ভাল করতে পারা যায় খুব সহজে। 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ৫০,০০০ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

৯) ব্লগার/ আর্টিকেল রাইটার 

আপনি যদি সৃজনশীল না হন বা আপনার যদি সুযোগের অভাব থাকে তবে আপনি ভিন্নধর্মী কিছু করতে পারেন এবং নিজস্ব একটি ব্লগ খুলতে পারেন। হাজার হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ইতোমধ্যেই সেটি করেছেন। আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইট চালালে অনেক স্বাধীনতা পাবেন। আপনি বিজ্ঞাপন দিয়ে, বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপনের জায়গা রেখে, স্পন্সরড পোস্ট লিখে, এবং আপনাকে পি পি সি রাজস্বের একটি অংশ দেবে এমন সব ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিয়ে উপার্জন করতে পারেন। চাইলে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ব্যবহার করে ইনকাম করতে পারবেন। 

তার জন্য আপনার ভাল একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে এবং ব্লগ বা কন্টেন্ট লেখার মত দক্ষতা থাকতে হবে। আপনি চাইলে এটি একা করতে পারেন অথবা চাইলে একাদিক মানুষ নিয়ে করতে পারেন। যে যেই বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে ব্লগ লিখে পাবলিশ করবে। 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ৬৫০,০০ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

১০) এসইও কনসালটেন্ট

সব প্রতিষ্ঠান চাই তার কোম্পানি ওয়েবসাইট গুগল রাঙ্কিং সবার আগে আসুক। আর এই কাজটা মূলত করতে হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সংক্ষেপে যাকে বলে SEO এর মাধ্যমে। এসইও দক্ষতা আরও বেশী প্রযুক্তিনির্ভর কিন্তু আপনার যদি কোডিং, প্রোগ্রামিং বা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জ্ঞান থাকে তবে আপনি এই ক্ষেত্রটিতে ভালো করবেন। অনলাইন মার্কেটিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট এসইও। 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা: ৯৫,০০০ টাকা। তবে এই এটা কোম্পানি অনুযায়ী কম বেশিও হতে পারে।

পরিশেষে কিছু কথা, আজকের আর্টিকেলে আমরা চাকরির যে সেক্টর গুলি নিয়ে আলোচনা করলাম এই সেক্টরে কিন্তু কেউ চাইলে এক দিনে যেতে পারে না। তার জন্য অনেক দক্ষতা এবং অনেক কিছু শিখে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তারপর যেতে হবে। তাই আপনার জন্য ভাল হবে শুরু করে দেয়া। শুরু করে দিন, কাজ করুন, দেখবেন আপনি একদিন আপনার স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছে গেছেন।